বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
নীলফামারী-১ আসনে জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজের নির্দেশ বিএনপির টোকিওতে জাপানি গণমাধ্যমকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিং চুনারুঘাটে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক কুড়িগ্রাম-২ আসনে প্রতীক পেলেন এবি পার্টির নজরুল ইসলাম অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর সাংবাদিক সম্মেলন নওগাঁয় পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার বিলে পড়ে ছিল পাখি শিকারির মরদেহ বানারীপাড়ায় সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আব্দুল মান্নান মাস্টার আর নেই আজ থেকে প্রবাসী ভোটাররা পোস্টাল ভোট দিতে পারবেন সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ আজ বাগেরহাট-২ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন বিএনপি নেতা সালাম নোবিপ্রবিতে শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে স্কুল ইন্টার্নশিপ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ঘোড়াঘাটে মোবাইল কোর্টের অভিজান : অর্থদণ্ড আদায় ৪২০০০ হাজার টাকা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ স্থগিতের নির্দেশ ইউজিসির নজিপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ‘নিসচা’র মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত চাটখিলে পিকআপ ভ্যান চাপায় এক নারীর মৃত্যু কাজী নাজমুল হোসেন তাপস কি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন? নওগাঁয় বিচার বিভাগ ও জেলা পুলিশের বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গোয়াইনঘাটে ধানের শীষের পক্ষে ঘরে ঘরে গণসংযোগ নাসিরনগরে মোবাইল কোর্টের অভিযান : চেয়ারম্যান, মেম্বারের সিলমোহর উদ্ধার, একজনকে জরিমানা

ইতিহাস-ঐতিহ্য আর নান্দনিক সৌন্দর্যে পর্যটকের হিড়িক নাটোরের উত্তরা গণভবনে

মোঃ শরিফুল ইসলাম, নাটোর সদর প্রতিনিধিঃ

নাটোর জেলার দিঘাপতিয়া অবস্থিত ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবন আজ শুধু একটি সরকারি স্থাপনা নয়, বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অসংখ্য পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে এই দর্শনীয় স্থানটি।

ঐতিহাসিকভাবে উত্তরা গণভবনের সূচনা হয় ব্রিটিশ শাসনামলে। ১৮৩১ সালে নাটোরের তৎকালীন রাজা দিঘাপতিয়া রাজবংশের শাসকরা এটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে এটি গভর্নরের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এই স্থাপনাটিকে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন (উত্তরা গণভবন) হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে এটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

প্রায় ৪৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত উত্তরা গণভবনের স্থাপত্যশৈলী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বিশাল সবুজ লন, সারিবদ্ধ প্রাচীন গাছ, মনোরম ফুলের বাগান এবং নান্দনিক ভবন দর্শনার্থীদের কাছে মনে গেথে যাওয়ার মত পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। মূল ভবনের পাশাপাশি রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা, পুকুর, খোলা প্রান্তর ও প্রশস্ত পথঘাট।
শীতকাল ও সরকারি ছুটির দিনে এখানে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষ, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং ইতিহাসপ্রেমীরা এখানে এসে ইতিহাসের ছোঁয়া অনুভব করেন। অনেকেই ছবি তোলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগে ব্যস্ত সময় কাটান।

পর্যটকরা জানান, উত্তরা গণভবনের শান্ত পরিবেশ ও সৌন্দর্য মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। বিশেষ করে গ্রামবাংলার সবুজের মাঝে এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস জানার এক উন্মুক্ত পাঠশালা হিসেবে কাজ করছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও পর্যটনবান্ধব উন্নয়ন হলে উত্তরা গণভবন জাতীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও বেশি পরিচিতি লাভ করবে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয়ে নাটোরের উত্তরা গণভবন আজ দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হিসেবে পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩